রাধা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
"দেশ তখন সমৃদ্ধ। বর্গীর হাঙ্গামা তখনও বছর বিশেক দূরে। বুলবুল কি টিয়াপাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে ধান খেয়ে গেলেও লোকে খাজনা দেবার জন্য ভাবে না। দেশে তখন অনাবৃষ্টিও ছিল না। যুদ্ধও না। বাংলা দেশের ক্ষেতে তখন শস্যের সমারোহ; খামারে খামারে ধানের বাখার, ছোলা-মুসুরের বাখার, ভাঁড়ারে জালায় জালায় গুড় মজুদ। ঢাকায় মসলিন, মুরশিদাবাদ-বিষ্ণুপুরে রেশম, গ্রামে গ্রামে আটপৌরে কাপড়ের তাঁত চলে ভোর থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত। ফিরিঙ্গীরা এ দেশে এসেছে, বসেছে, কিন্তু তার ভিত পোক্ত হতে পারে নি।
আজকাল ইলামবাজারে যে ইংরেজ-কুঠীর ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় তার কথা কেউ তখন স্বপ্নও দেখত না; শুধু কখনও-সখনও দু-একখানা নৌকো এসে লাগত; তার উপর থেকে দু-চারজন আশ্চর্য সাদা রঙের মানুষ এসে নেমে দুর্বোধ্য ভাষায় কথা বলত। এখানকার মাল নিয়ে চলে যেত। ওদের বলত ফিরিঙ্গী। তাদের কারবার ছিল তুলোর আর কাপড়ের।.."