রাক্ষস
মানস দত্ত | বৈদূর্য্য সরকার
বেদে রাক্ষসের উল্লেখ সেভাবে নেই, যা ছিল মূলত দাস বা দস্যু । তারাই সম্ভবত মহাকাব্যে রাক্ষস হয়ে গেলেন । বাল্মীকির রচনায় মূলত পাওয়া যায় যে গোষ্ঠী বা জাতিগুলোকে – আর্য, গৃধ্র, বানর, চণ্ডাল ও রাক্ষস । ভাবা যায় এরা একসঙ্গে পাশাপাশি ছিল। যদিও তাদের বৈশিষ্ট্য বা নৈতিকতার চিত্রে খানিক তফাৎ পাওয়া যায় । রামায়ণের উত্তরকাণ্ডে চতুর্থ সর্গে রাক্ষসের জন্মকাহিনি পাওয়া যায় আগস্ত্য মুনির ভাষ্যে । তাদের প্রাথমিকভাবে মানব রক্ষার জন্যে উৎপন্ন করা হলেও পরে তাদের অবস্থান বদলে যায় । রাক্ষসদের কালো চরিত্র হিসেবে প্রতিফলিত করা হলেও প্রজ্ঞা ও শক্তিসামর্থ তাদের যথেষ্ট ছিল । মহাকাব্যে উল্লিখিত ক্ষমতার লোভ আস্ফালন থেকে পতন বোধহয় রাক্ষস সভ্যতার পতন সূচিত করে । আর্যরা উচ্চবর্ণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় শৃঙ্খলার কারণে । এই বিভিন্ন গোষ্ঠী বা জাতির মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে মহাকাব্যের পটভূমিকা । আবার যক্ষদের মধ্যে কুবের তপস্যা করে দেবত্বে উন্নীত হয় এবং তাকে চতুর্থ লোক পালক হিসেবে নিযুক্ত করেন প্রজাপতি ব্রহ্মা । যদিও তার বৈমাত্রেয় ভাই রাবণ থেকে যায় রাক্ষস ও দেবতাদের মহাশত্রু হিসেবে । হয়তো রাবণের দুঃসহ বীরত্বের সাথে উচ্চাশাই তার অবস্থান পালটে দিয়েছিল । খেয়াল করলে দেখা যায় আজও সেই মূল ব্যাপারটা পাল্টায়নি ।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি