সমাজদর্পণে নারীর মুখ
সুমিতা হোম নাহা
অতি প্রাচীনকালে গিরিগুহা থেকে উপত্যকায় নেমে আসেন নারী। শস্যের বীজ মাটিতে বোনেন। সে বীজ অঙ্কুরিত হয়ে সূচনা হল মানবসভ্যতার নতুন ইতিহাস। কৃষিকাজের উদ্ভাবক হিসেবে নারীর অবদান থাকলেও সমাজ-পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থানগত পরিবর্তন হতে থাকে।
দিনবদলের নানামুখী প্রেক্ষাপটে এক দীর্ঘ সংগ্রামের ভেতর দিয়ে গৃহে ও কর্মক্ষেত্রে নারীর সরব উপস্থিতি এখন লক্ষ করা যায়। তবে নারীর অবস্থানের কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটলেও জীবনের মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। নারী-আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, এর সূচনা হয়েছিল ভোটাধিকার নিয়ে। সমাজে পশ্চাৎপদ মূল্যবোধ নারীর অধিকার সুদীর্ঘকাল যেমন খর্ব করেছে, তেমনি আজও করছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীবাদ তত্ত্ব হিসেবেও পরিশীলিত হচ্ছে। তবে এর মূল যে উদ্দেশ্য লিঙ্গ-সাম্যের পৃথিবী নির্মাণের, সেদিকে লক্ষ্য রাখা এখন জরুরি।
নারীমুক্তি আন্দোলন শুধু নারীর জন্য কিছু সুবিধা আদায় করা নয়, এর লক্ষ্য হল, সার্বিক মানবমুক্তি। সমতাভিত্তিক, মানবিক ও অধিক নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য চাই নারী-পুরুষের যুগ্ম পদযাত্রা। চাই মুক্তবুদ্ধির চর্চা। একুশ শতকের মেয়েদের চোখে আজ অনেক স্বপ্ন। তবে স্বপ্ন তো চিরদিন স্বপ্ন হয়ে থাকে না। এগিয়ে যাবে মানুষ। বিভাবরী সূর্য উঠবেই।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি