সঙের পার্বতী
স্বপন পাল
জীবন যেখানে যেভাবে এগিয়ে চলে, সেখানেই গল্প লুকিয়ে থাকে। লেখক খুঁজে বেছে কখনো ছেঁকে নেয় গল্পটি। পাট কেটে দড়ি বানানো বুড়ো দীনুর যে একটা সিঁদকাটা চোরের অতীত আছে সে-কথা মনে রাখার মানুষ এখন না থাকলেও তার বৌ বুড়ি বিন্ধ্যবাসিনী ভোলে কী করে? তেমনই দীনু ভোলেনা তাকে জীবনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে এনেছিল তার বৌ। একেক জনের বিপথগামীতা শোধরানো হয়তো সহজ কিন্তু সমাজের মাথা বিপথগামী হয়ে উঠলে তা সংশোধন সহজ হয় না, কারণ অনেকের যে স্বার্থের টিকি বাঁধা পড়ে আছে তার কাছে। তাই হয়তো সঙের পার্বতীর পার্বতীকে পুড়ে মরতে হয়। বৃদ্ধাশ্রম বার্দ্ধক্যের সমাধান না হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার গুণে অরুণস্মৃতি বৃদ্ধাবাসের মতো তাও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে। ভালো কাজের একটু প্রচার যা কাছের মানুষজনকে মুগ্ধ করবে, সেই প্রেরণা গরীব সরল এক মানুষকে সামাজিক দায়িত্ব পালনে অচ্ছা-আদমী হতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। বাবা-মা দু'জনে জীবিকার কারণে বাইরে থাকলে বেবি-সীটারের হাতে ছেড়ে রাখা বাচ্চাকে নিয়ে নানা আতঙ্ক মায়ের মনে ভয় দেখাতে থাকে অবচেতনে। এরকম ভিন্ন ভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনের পরত ছাড়াতে ছাড়াতে লেখক আসলে জীবনেরই জয়গানটি গেয়েছেন খুব যত্নের সঙ্গে। ইন্টিরিয়ার, সম্পর্ক, শেষযাত্রা, একটা কাজের খবর আর অতিমারীর প্রেক্ষাপটে লেখা দু'টি গল্প সেই কথাই বলে।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি