আমি নেতাজীকে দেখেছি
প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দী
নারায়ণ সান্যাল
হ্যাঁ, আমিও তাঁকে দেখেছিলাম। দেখেছিলাম অত্যন্ত নিকট সান্নিধ্য থেকে। দিনের পর দিন। তাঁর সামনে বারে বারে গিয়ে দাঁড়িয়েছি ছোটবোনের মত, মেয়ের মত-কখনো সুসজ্জিত সামরিক বেশে, কখনো কর্দমাক্ত ধূলিমলিন চীরবসনে সর্বাঙ্গ ঢেকে, আর একবার, হ্যাঁ, রাজরানীর পোশাকে। সেটা একেবারে শেষ দিন। সেদিন আমার কণ্ঠে ছিল হীরকখচিত শতনরী, সর্বাবয়বে ছিল কেয়ূর, কঙ্কণ-কুণ্ডল আর রতনচূড়, মাথায় ছিল মণিমুক্তাখচিত রাজমুকুট। হাজার বাতির আলোয় হাজার দর্শকের সম্মুখে দেশের রাজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলাম রানীর বেশে। বাসি-বিয়ের ভাঙা আসরে যেমন সমস্ত আনন্দানুষ্ঠানের মধ্যে মূর্ত হয়ে ওঠে সানাইয়ের করুণ তান, সেদিন তেমনি সেই উৎসবের মধ্যেও বেদনার একটা ব্যঞ্জনা মূর্ত হয়ে উঠেছিল। সালঙ্কারা কন্যাকে বুকে টেনে নিয়ে বাপ যেমন তার শিরশুম্বন করে ঠিক তেমনি করেই তিনি আমাকে কাছে টেনে নিয়ে বলেছিলেন-'আশীর্বাদ করি এমনি রাজরানীর মত তুমিও একদিন দেশের জন্য জীবন বিসর্জন দাও!'
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি