ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধজয়ের নেপথ্যে
অমিত দেবনাথ
১৯৭১। ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের প্রাক্কালে গভীর সমুদ্রে শুরু হয়েছিল এক অদৃশ্য শিকার অভিযান। পাকিস্তানের পরিকল্পনা ছিল দুঃসাহসিক। যুদ্ধের সূচনা হবে ভারতের নৌবাহিনীর গর্ব, সেইসময় দেশের একমাত্র এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার আই.এন.এস. বিক্রান্তকে ডুবিয়ে। কারণ, বিক্রান্ত ধ্বংস মানেই বঙ্গোপসাগরে ভারতের নৌ-ক্ষমতার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। সেই মিশনের জন্য করাচি বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল পাকিস্তানের সবচেয়ে শক্তিশালী আর আধুনিক ডুবোজাহাজ, পি.এন.এস. গাজী। লক্ষ্য একটাই, বিক্রান্তকে খুঁজে বের করা এবং তাকে চিরতরে দফন করা। কিন্তু পাকিস্তানিদের কোনো ধারণা ছিলনা যে ভারতের যুদ্ধমঞ্চে তখন সাজানো হয়ে গেছে আরেকটা অদৃশ্য চাল। কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামএ বসে পাকিস্তানের রেডিও বার্তা ইন্টারসেপ্ট করে শত্রুর পরিকল্পনার প্রতিটা সূক্ষ্ম রেখা পড়ে ফেলেছিলেন ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ মেজর জেনারেল জ্যাক জ্যাকব। এরপরেই শুরু হল সামরিক ইতিহাসের এক অসাধারণ ছক, একটা ধোঁয়াশা ঘেরা বিভ্রান্তির জাল যা পরে বিশ্বের সামরিক ইতিহাসে পরিচিতি পেল “Master Deception Plan” নামে। বিক্রান্তকে খুঁজতে এসে শেষ পর্যন্ত বিশাখাপত্তনম উপকূলের কাছে মাঝ সমুদ্রে ধ্বংস হয়ে গেল সেই দুর্ধর্ষ ডুবোজাহাজ পি.এন.এস. গাজী। কিন্তু যে প্রশ্নগুলো রয়ে গেল তা হল, যখন ভাইজ্যক বন্দরের রণমঞ্চে বিক্রান্তের জন্য ফাঁদ পাতা শুরু করেছিল গাজী, তখন ভারতের সেই কিংবদন্তি রণতরী আই.এন.এস. বিক্রান্ত ঠিক কোথায় ছিল? কীভাবে ধ্বংস হল তথাকথিত অজেয় গাজী?
সেই রহস্য, সেই কৌশল, আর ১৯৭১-এর নৌযুদ্ধের রুদ্ধশ্বাস ইতিহাস সহ ১৯৪৭ থেকে কারগিল পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর বেশ কিছু দুঃসাহসিক অভিযানের নেপথ্য কাহিনি নিয়ে প্রকাশিত হলো, অমিত দেবনাথের 'ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধজয়ের নেপথ্যে'।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি