বোহেমিয়ানের সাধুসঙ্গ চতুর্থ খণ্ড

(0 পর্যালোচনা)
লিখেছেন/সম্পাদনা করেছেন
রাজাধিরাজ ভট্টাচার্য

মূল্য
₹275.00
পরিমাণ
মোট দাম
শেয়ার করুন

বোহেমিয়ানের সাধুসঙ্গ চতুর্থ খণ্ড 

রাজাধিরাজ ভট্টাচার্য্য 

বৃষ্টি ভেজা রাতের হিমালয়ের এক আদিম সৌন্দর্য আছে। অনুভব করার মতো নির্মল মন না থাকলে সে অনুভূতি সহজে ধরা দেয় না। আধুনিক সমাজের হতভাগ্য মানুষ, চোখ থাকতেও অন্ধ। হৃদয় থাকতেও প্রাণহীন। জীবন থাকতেও যার মনে আনন্দ নেই, হৃদস্পন্দন সচল থাকলেও সে মৃত।

বৃষ্টি বন্ধ হয়ে এখন দমকা হাওয়া চালাচ্ছে। অচেনা ফুলের গন্ধে চারপাশ মত্ত। মহাশূণ্যে এক ফালি চাঁদ দেখা যাচ্ছে!

এই হলো পাহাড়ের মহত্ব, বেশিক্ষণ রাগ পুষে রাখে না। হিসাব মিটে গেলেই সব পরিষ্কার। হায় রে! মানুষ যদি এমন হতে পারতো!

গন্তব্যে ফিরতে বেলা হয়ে গেছে। কুকারে দুটো ভাত, ডালভাতে, আলুভাতে, ডিম বসিয়ে, স্নান এবং পুজো সেরে খেয়ে ঘন্টা তিনেক ঘুমিয়ে উঠে বড়বাবুর বাড়ি পৌঁছে গেছি।

বাড়ি না বলে প্রাসাদ বলাই ভালো। জলের ট্যাংক এর ওপর তাজমহলের মত গম্বুজ বানানো আছে, যার মাথায় ভিক্টোরিয়ার মত ডানাকাটা পরী দাঁড়িয়ে আছে। মিনিটের কাঁটা মিলিয়ে চব্বিশ ঘন্টায় এই স্ট্যাচু দিক পরিবর্তন করে। সুইজারল্যান্ড থেকে নিলামে কেনা এই মূর্তি-ঘড়ি প্রায় দেড়-দুশো বছরের পুরনো।

সেলাই মেশিনের ব্যবসা ছাড়াও উল, ছুঁচ, কাঁচি এবং ফার্টিলাইজারের ব্যবসা আছে আমাদের কোম্পানির।

এত বড় বাড়িতে সাকুল্যে পরিবারের চারজন মানুষ থাকে। বড়বাবুর বৃদ্ধ বাবা, বড়বাবু নিজে, ভাবীজি আর কন্যা। শুনেছি একটি ছেলে ছিল, সে নিরুদ্দেশ হয় বছর তিনেক আগে। কন্যা কলেজে পড়ে। হারিয়ে যাওয়া ছেলেটি'র বয়স বর্তমান হিসেবে আন্দাজ তেইশ-চব্বিশ-পঁচিশ হবে।

বাড়ির পাশেই সার্ভেন্ট কোয়ার্টার, লাগোয়া গাড়ির গ্যারাজ এবং আড্ডার ব্যবস্থা আছে। চারপাশে কেয়ারি করা সূর্যমুখী আর ডালিয়া ফুটে আছে।

মনকেমন করা ছাতিমের গন্ধে মাতোয়ারা পরিবেশ। পাঞ্জাবের এই চত্বরে এই বাড়ি ছাড়া আর কোথাও ছাতিম গাছ দেখেছি বলে মনে পড়ছে না।

সূর্য ডুবে গেছে কিছু আগে। কাঠ সাজিয়ে আগুন জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেইদিকে পিঠ দিয়ে বসে সামনে পড়ে থাকা টাইমস ম্যাগাজিনের পাতা উল্টে অপেক্ষায় রইলাম।

বড়বাবুর সময়জ্ঞান মারাত্মক, কথামতো ঠিক সাড়ে ছটায় তিনি এলেন। আমি উঠে দাঁড়াতে, কাঁধে হাত রেখে বসতে বললেন।

মিনিট তিনেকের মধ্যে গ্লাস, সোডা, হরেক কিসিমের দারু, বরফ, গরম জল, স্নাক্স, ড্রাই ফ্রুট ইত্যাদি সাজানো হলো। রীতিমতো অবাক কান্ড!

বড়বাবু কে গত আড়াই বছরে কোনোদিন নেশা করতে দেখিনি!

আমার সন্দেহে সীলমোহর মেরে ভদ্রলোক বললেন, 'আমি শিখ, আমাদের ধর্মে আমিষ খাওয়া এবং নেশা করা দুটোই বারণ। বাড়িতে বন্ধুবান্ধব লেগেই থাকে, তাদের জন্য জোগাড় রাখতে হয়।'

অবাক হওয়ার তখনও বাকি ছিল! ভদ্রলোক বললেন, 'এগুলো তোমার জন্য, যা প্রয়োজন চেয়ে নেবে।'

প্রাথমিক চমক সামলে বললাম, ' মাঝেমধ্যে নেশা করি বটে, তবে গুরুজনের সামনে নেশা করা যায় না। আপনি আমার পিতৃতুল্য, আমায় মাফ করবেন, এক কাপ কফি হলেই হবে।'

কাচের গ্লাস, মদের বোতল, সব ফিরে গেল, সেই জায়গায় কফি এলো। আশপাশের কোয়ার্টার খালি পড়ে আছে। রাত বাড়ছে। মাঝেমধ্যে দু-একজন এসে আগুনে কাঠ সাজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ নীরবতার পর বড়বাবু বললেন —

'তোমাকে এখানে ডাকার বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। একটা কঠিন কাজের জন্য তোমার সাহায্য চাই, এটা করা বা না করা সম্পূর্ণ তোমার ইচ্ছের ওপর নির্ভর করছে। একজন বাবা হিসেবে আমি অনুরোধ করতে পারি মাত্র। বলা ভালো, আমি তোমার সাহায্য ভিক্ষা চাইছি!'

আজকাল কফি খেলেও নেশা হয় নাকি! ভদ্রলোক বলে কি! ভিক্ষা দেবো আমি! তাও আবার ওঁ-কে

পর্যালোচনা ও রেটিং

0 মোট 5.0 -এ
(0 পর্যালোচনা)
এই বইয়ের জন্য এখনও কোন পর্যালোচনা নেই

বই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা (0)

প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য

অন্যান্য প্রশ্নাবলী

কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি