ব্রেনফিভার
অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রচ্ছদ : সুপ্রসন্ন কুণ্ডু
‘ব্রেনফিভার’ এবং ‘পৃথা কখন আসবে’—একটি নভেলজোড়। ‘ব্রেনফিভার’ এক আত্মদংশিত যাত্রার নাম—যেখানে শরীরের অসুখ ধীরে ধীরে রূপ নেয় আত্মার জ্বরে। রফিকুল, এক সাংবাদিক, এক লেখক, এক মাইনরিটি মানুষ—যিনি ক্রনিক প্যাংক্রিয়াটাইটিসের যন্ত্রণায় দিন কাটান হাসপাতালের বিছানায়, মৃত্যুর সঙ্গে সহবাসে। কিন্তু তাঁর ডায়েরির পাতায় যে-যন্ত্রণা ছড়িয়ে আছে, তা শুধু দেহের নয়—দেশের, সমাজের, সময়ের ক্লান্ত অসুস্থতার প্রতিফলনও বটে। মীরা, শাহানা, রাবেয়া, মরিয়ম—এই নারীরা তাঁর জীবনে প্রবেশ করে স্মৃতি, প্রেম, অনুতাপ ও প্রেতাত্মার মতো। বাস্তব ও স্বপ্ন, রাজনীতি ও ধর্ম, চিকিৎসা ও মৃত্যু, বেঁচে থাকা ও ভাঙনের সীমানা মুছে যায় এই উপন্যাসে। আর সেই অস্পষ্ট সীমানার মধ্যেই জন্ম নেয় এক মানুষের এক নিঃসঙ্গ, নিঃশব্দ প্রতিরোধ—যাকে সবাই ভুলে যেতে চায়, অথচ যে নিজের ব্যথাকে কবিতায় রূপ দিতে ছাড়ে না। ‘ব্রেনফিভার’ শহুরে অস্তিত্বের অন্তর্গত পচন, এক আধুনিক আত্মহারা মানুষের বেঁচে থাকার শেষ ব্যাকরণ। এখানে রোগই প্রেম, মৃত্যুই আশ্রয়, স্মৃতিই একমাত্র ঈশ্বর। এক দগ্ধ উপন্যাস—যেখানে শরীরের প্রতিটি ক্ষত কথা বলে সময়ের অসুখের সঙ্গে।
‘পৃথা কখন আসবে’ উপন্যাসে এই অপেক্ষা শুধু এক নারীর নয়; এ এক অস্তিত্বের, ভালোবাসার ফিরে আসার প্রতীক্ষা। লেখক এখানে নিজের অসুখ আর সমাজের অসুখকে এক করে দিয়েছেন এক দীর্ঘ ব্যথার সঙ্গে। ‘পৃথা কখন আসবে’ হল সেই উত্তরহীন প্রতীক্ষার কবিতা—যেখানে দেহের প্রতিটি শিরায় বয়ে চলে এক জিজ্ঞাসা, ‘বেঁচে থাকা মানে ঠিক কী?’ এক ক্লান্ত উপন্যাস—যেখানে অপেক্ষাই হয়ে ওঠে জীবনের একমাত্র রূপক।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি