হদিশ
ঝুম্পা লাহিড়ী
জার্নালের ভঙ্গিতে লেখা এ কাহিনির কথক লেখক স্বয়ং, ঝুম্পা এমন এক নারী, যিনি পৃথিবীতে নিজের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। স্থবিরতা ও গতির মধ্যে, আপন করে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরিতে অস্বীকৃতির মধ্যে তিনি দোদুল্যমান। যে শহরকে তিনি নিজের বাড়ি বলেন, তা তাঁর সঙ্গী এবং কথোপকথনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তাঁর বাড়ির চারপাশের রাস্তা, পার্ক, চত্বর, জাদুঘর এবং কফি বারে ঘুরে বেড়ানোর সময় তিনি নিজেকে কম একা অনুভব করেন। আমরা তাঁকে অনুসরণ করে পৌঁছে যাই সেই সুইমিং পুলে যেখানে তিনি প্রায়ই যান, এবং সেই ট্রেন স্টেশনে যেখান থেকে তিনি তাঁর মায়ের কাছে পৌঁছন। তাঁর মা, স্বামীর অকালমৃত্যুর পর নিজের একাকিত্বের জালে জড়িয়ে আছেন। তাঁর চলার পথে সঙ্গী হয় কত মানুষ — তাঁর সহকর্মী, সাধারণ পরিচিতজন এবং ‘সে’। যে তাঁর অতীত জীবনের ছায়া, ঘনিষ্ঠ সঙ্গী, সে অন্য নারীর সঙ্গে সংসার করে এখন। সেই বন্ধু তাঁকে সান্ত্বনা দেয়, মায়ায় আবদ্ধ রাখে এবং একই সঙ্গে বিচলিতও করে।
অবশেষে একদিন সমুদ্রের ধারে, সূর্যের প্রাণবন্ত উষ্ণতায় অভিভূত ও পুনরুজ্জীবিত হয়ে তাঁর এই ‘সম্পর্ক’ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি হঠাৎ বদলে যায়। এই কাহিনির কথক, পুরনো জীবন, বাসস্থান, শহর ছেড়ে এগিয়ে যায় অন্য জীবনের সন্ধানে।
‘হদিশ’ হল শহুরে একাকিত্বের একটি সূক্ষ্ম চিত্র, যা সৌন্দর্য এবং সম্ভাবনায় উদ্ভাসিত। এ গ্রন্থ ঝুম্পা লাহিড়ীর এক রোমাঞ্চকর নতুন পদক্ষেপ, ইতালীয় ভাষায় লেখা তাঁর প্রথম কাহিনি এবং প্রথমবারের মতো তাঁর নিজের এক পূর্ণাঙ্গ কাজ স্ব-অনূদিত। ছায়া ও আলোর এই খেলাসম কাহিনিটি শৈলী ও সংবেদনশীলতার এক সাহসী পরিবর্তন এবং একজন শিল্পীর নতুন রূপে মগ্ন হওয়ার ইঙ্গিতও দেয়।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি