হামারটিয়া
শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
পঁচিশ বছর আগে সমাধান হওয়া এক খুন।
একটি চিঠি আবার খুলে দেয় সেই পুরোনো কেস। বদ্ধঘরের রহস্য, ভুলে যাওয়া স্মৃতি, আর মানুষের অপরাধবোধ। তদন্ত যত এগোয়, ততই স্পষ্ট হয়— শুধু খুনের গল্প নয়, এটা ‘হামারটিয়া’র আখ্যানও হতে পারে।
---------------------------
".. আমি আপনাকে চিঠি লিখছি অন্য কারণে। মালিনীকে হত্যার রাত্রে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম এবং আমার মনে নেই কী ঘটেছিল, বলেছিলাম আমি। সেটা ভুল নয়। সত্যিই আমার মনে ছিল না। কিন্তু, তার পরে এতগুলো বছর ধরে সেই রাত ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে অনেক ভেবেছি। মনে করার চেষ্টা করেছি। কিছু টুকরো ঘটনা মনে এসেছে, যেগুলো আগে ভুলেছিলাম। কিন্তু, কোনো স্মৃতিতেই মালিনীকে হত্যার দৃশ্য নেই। আজ আমি নিঃসংশয়, আমি অপরাধী ছিলাম না। আমি যদি এত বড়ো কাজটা করতাম, তার স্মৃতি তখন না-এলে আমার মনের ভেতর অন্তত সুপ্ত থাকত, এবং পরে কখনো-না-কখনো জেগে উঠতই। কিন্তু, স্মৃতিতে একদম নেই, এটা হতে পারে না। এখন এই কথাগুলো বলার অর্থ নেই, কারণ আমি সাজা ভোগ করে ফেলেছি। কোনো লাভও হয়তো নেই, নতুন করে তো আগের জীবন ফিরে পাব না! কিন্তু যেটা ঘটেনি, সেটার দায় নিয়ে আমি মরব না। অন্তত, একজনের কাছে স্বীকার করে যেতে চাই যে, আমি অপরাধী ছিলাম না। প্রথমে ভেবেছিলাম, মালিনীর ছেলে সাম্যকে চিঠি লিখে যাব। ও আমার ছোটোমেয়ের বয়েসি। কিন্তু সে কোথায়, আদৌ এখানে থাকে কি না, আমি জানি না। তার ওপর, আমার সম্পর্কে ওদের যা ধারণা, হয়তো নাম দেখেই চিঠি ছিঁড়ে ফেলবে। আপনি ইনভেস্টিগেটিং অফিসার ছিলেন, তাই আপনার কাছে এ কথা বলে যাই। আবার, এবং আবারও, যে, না, মালিনীকে আমি হত্যা করিনি। আমি ওকে ভালোবাসতাম। আমার নিজের মতো করেই বাসতাম, হাজার সীমাবদ্ধতা নিয়েও। কিন্তু, যাকে ভালোবাসতাম, তাকে খুন করা সহজ কাজ নয়, মিস্টার আহমেদ। প্রায় অসম্ভব।এই চিঠি পেয়ে আপনার কিছুই করার নেই, আমি জানি। এত পুরোনো কেস নিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি কেউ চালাবে না। আপনি চাইলে এই চিঠি ফেলে দিতে পারেন। মৃত্যুর পর আমার কিছু আসে-যায় না। তবে, নিজেকে এখন হালকা লাগছে। মালিনীর সঙ্গে তাড়াতাড়ি আমার দেখা হবে।
নমস্কার নেবেন,
অনিরুদ্ধ সান্যাল।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি