জগন্নাথের খেয়াল খাতা
জগন্নাথ পণ্ডিত
বহুদিন আগেকার কথা মনে পড়ে গেল। তখন নিজেই ছিলাম বালক, খেলাধূলা ও গল্প-শোনায় ছিল সমান উৎসাহ। আমরা ছিলাম তখন এলাহাবাদে, পিতার কর্মস্থলে। খেলার-সাথীর মধ্যে হিন্দুস্থানীই ছিল বেশী, আর গল্প শোনাবার লোকের মধ্যে ছিল একজন পশ্চিমা ব্রাহ্মণ, বাবার আরদালী। সে যৌবনে ফৌজী সিপাহী ছিল এবং সিপাহী বিদ্রোহে কোম্পানীর বিরুদ্ধ দলে যোগ দেয়। আর ছিল বাবার বেয়ারা হিন্দুস্তানী কাহার, সে কৈশোরে কুলীর আড়কাটির পাল্লায় পড়ে ট্রিনিডাড যায়।
খেয়াল-খাতার গল্প ঠিক তাদের বলা গল্প নয়, তবে তাদের জীবনের কাহিনীর ছায়া এগুলির কয়েকটিতেই আছে। ভাষাও তাঁদের খড়িবোলীর রূপান্তর নয়, বরঞ্চ বাংলাদেশের বনিয়াদী বাড়ির ভোজপুরী দরোয়ানের হিন্দী মিশ্রিত বাংলার অনুকরণ অনেক স্থলে করেছি।
প্রথম গল্পটি আমার অগ্রজপ্রতিম স্বর্গত বন্ধু সুকুমার রায়ের অনুরোধে লেখা হয়, তাঁদের 'সন্দেশ' কাগজের জন্য। উহা প্রকাশিত হয় ১৩২০ সালে। ঐ গল্পের যে ছবি তিনি এঁকেছিলেন, তাঁর পত্নীর অনুমতিক্রমে, সেটিই এই খেয়াল-খাতার প্রথম ছবি হিসাবে দেওয়া গেল। সুকুমার রায়ই গল্প লেখায় আমায় প্রথম উৎসাহ দিয়েছিলেন, সে কথা আজও স্মরণ করি।
জগন্নাথ পণ্ডিত লিখিত ও হিতেন্দ্রমোহন বসু বিচিত্রিত এই বইটি প্রথম প্রকাশের প্রায় ৭০ বছর পর লালমাটি প্রকাশনার হাত ধরে নব রূপ পেল 'জগন্নাথের খেয়াল খাতা' বইটি।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি