কালের কাফেলা : আমাদের সময়ের গল্প
জহিরুল হাসান
বইটি ঠিক আত্মজীবনী নয়, যদিও লেখকের জন্ম থেকে মধ্য বয়স পর্যন্ত নানা ঘটনা এতে ছোটে ছোটো গল্পের আকারে উঠে এসেছে। ১৯৪৬ থেকে ১৯৯১, এই ৪৫ বছর শুধু লেখকের জীবনেই নয়, দেশবাসীর জীবনেও এক বড়ো পরিবর্তনের কাল।
লেখক সেটাই নিজের জীবনের সঙ্গে এমন নিপুণভাবে জুড়ে দিয়েছেন যে তা নিছক 'আমার' কথা হয়ে থাকেনি, হয়ে উঠেছে জনসাধারণের কথা যাঁরা ষাট-সত্তর-আশি-নব্বইয়ের দশকে যুবক ছিলেন।
লেখাগুলির একটি আলাদা ঐতিহাসিক গুরুত্বও আছে। একরৈখিক বর্ণনা নয়, এখানে স্মৃতিচারণের মেজাজটাই অন্য রকম। একজন শিক্ষিত সমঝদার লেখক সংস্কৃতির সর্বত্র বিচরণ করে নিজেকে ক্রমাগত সমৃদ্ধ করেছেন।
সেই সুবাদে লেখার নানা পর্বে প্রকাশ পেয়েছে তৎকালীন রাজনীতি, পুরোনো কলকাতা, সমাজ বিশেষ করে মুসলিম জীবন, ধর্ম, খেলা, নাটক, সিনেমা, সাহিত্য, ভ্রমণ, বহু বিখ্যাত মানুষের কথা, রাজ্য ও রাজ্যের বাইরেরও নানা ঘটনা যেগুলি লেখক নিত্য জীবনযাপনের মধ্যে দিয়ে, কর্মসূত্রে বা নিছক কৌতূহলে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। আত্মরতির কোনো জায়গা রাখেননি, উলটে নিজের এক সাদাসিধা চেহারাই তুলে ধরেছেন দুর্বলতা সমেত, নিজেকে নিয়েও কত উপহাস! অন্যদিকে, উপস্থাপনা এত কোমল, লেখার মধ্যে এমনই গল্পের টান, আচমকা সাসপেন্স, কখনও বা শেষে গিয়ে একটা ঝটকা, সব মিলিয়ে পাঠকের পড়তে বেশ ভালো লাগবে।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি