মিঠে কড়া শতেক ছড়া
কাজী নুসরত হোসেন
সামঞ্জস্যই নির্মাণ করে ছন্দ। সুছন্দিত যাকিছু, তাই সুন্দর। সেই সুন্দর, মানবমনে আনন্দ-অনুভূতি সৃষ্টির উৎস। সুদূর অতীতকাল থেকে তাই শিশুমনে আনন্দ জোগাতে কথাতেও আনা হয়েছে ছন্দ। মা-ঠাকুমার মুখে রচিত সেই ছন্দোবন্ধ, শিশুর মনভোলানো সৃজন আখ্যায়িত হয় ছড়া হিসাবে। শিশুর মনতুষ্টির ক্ষেত্রেই শুধু আর সীমাবদ্ধ নয়, বাংলা বাগধারা, প্রবাদ-প্রবচন, হেঁয়ালি-ধাঁধার ক্ষেত্র ছুঁয়ে ছুঁয়ে, ছড়া আজ কবিদের কাছে নিজের সমাজ, সমকালীন প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে নিজস্ব ভাবনাকে তুলে ধরার মাধ্যম।
সেই প্রয়াসের ছবি এই ছড়াসংকলনের ছড়াগুলিতেও লক্ষ্যণীয়। কমবয়সী শিশু-কিশোরদের মনকে যেমন ছড়ার ভাববস্তু দিয়ে ছুঁতে চাওয়া হয়েছে, তেমনি বড়োদেরও সমাজচেতনাকে আন্দোলিত করে এমন বিষয়ের ছড়াও ঠাঁই পেয়েছে সংকলনে। তাই, শুধু ছেলেভুলানো শিশুতোষ ছড়া নয়, সমসময়ের সামাজিক অবক্ষয়, মানবিক বিচ্যুতিও বেশ কিছু ছড়ার বিষয় হয়েছে। প্রকৃতিচেতনার ছড়া যেমন এতে আছে, তেমনি আছে মনীষীদের স্মরণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের ছড়া। শিশুমনকে ঘিরে থাকা ভাবকল্পনার ভুবনকে আলোকিত করা এবং বড়োদের সামাজিক চেতনাকে আন্দোলিত করা, উভয়ই ছড়াকারের অভিপ্রায়। সে প্রয়াস কতটা সার্থক হয়েছে তার বিচারের ভার সুধী পাঠকবৃন্দের উপর।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি