নির্মুখোশ ১৪৩৩
আরও একটি শরৎ এল। আদিম স্মৃতির মিথষ্ক্রিয়ার পৌরাণিক কথা ও অতিকথার স্তম্ভিত মেঘকে উড়িয়ে দিয়ে হালকা পেঁজা তুলোর মতো মেঘে। কিন্তু এখন কুরিয়ে যাওয়া কাঁচা সোনার রঙের মতো রোদ্দুরে ধূসর আস্তরণের প্রলেপ, শিউলির গন্ধের কৃপণতায় নাশকতার উদ্বেগ, বিবিধ পুষ্পসম্ভারের সৌরভহীন রাসায়নিক রূপের বিস্তার, ফুরিয়ে যাওয়া বিপন্ন গ্রাম্য নদীগুলির ভাঙা ঘাটে নৌকার অনুপস্থিতি আর ঈষৎ প্রৌঢ়ত্বের টান-ধরা আরও একটি শরৎ। এখন ছুটি আর সারা বছরের আয়োজনের অপেক্ষা করে না। 'মাস্টারমশায় পড়িয়ে চলেন' না 'পাথুরে কয়লার আদিম কথা', রবি ঠাকুরের কবিতা (ছুটির আয়োজন, পুনশ্চ) থেকে উঠে আসা 'ছেলেটা বেঞ্চিতে পা দোলায়' না, তার 'আপন মনে' আর ভেসে ওঠে না 'কমলদিঘির কাটল-ধরা ঘাট' আর কোনো প্রতিবেশীর 'পাঁচিল-ঘেঁষা আতাগাছের ফলে ভরা ডাল'। মনে মনে সে আর 'দেখে' না 'তিসির খেতে গোয়ালপাড়ার ভিতর দিয়ে রাস্তা গেছে এঁকেবেঁকে' 'নদীর ধারে' 'হাটের পাশে'। সেই ছেলেটিই আর নেই। এই শরতে সবকিছু নিরায়োজিত কোনো প্রযুক্তির প্রহারে স্বপ্নহারা। এখন আর আনমনা হয়ে পড়ে না রবি ঠাকুরের চোখে চশমা-পরা 'মেডেল পাওয়া' ছেলেটি। তাকে ইকনমিকস্ ক্লাসে আর ফর্দ বানাতে হয় না: 'পাড়ের শাড়ি', 'সোনার জড়ানো শাঁখা', 'দিল্লির-কাজ করা লাল মখমলের চটি'। তার সঙ্গে ভাবনা ছিল 'রেশমে বাঁধাইকরা দামি এন্টিক কাগজে ছাপা কবিতার বই', 'হালের লেখা কোন্ উপন্যাস' কিনতে হবে। ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়েছে কবেই- 'আবুপাহাড় না মাদুরা', ডালহৌসি না পুরী, 'না সেই চিরকেলে চেনা লোকের দার্জিলিঙ।' সেসব কিছুই নেই। তবু এবারও উষ্ণায়নের ভ্রূকুটিকে অগ্রাহ্য করে শরৎ এসেছে। তবু এবারও মরা নদীর চরে, দুপাশে কাশের ঝালর। এবারও আমাদের ছুটির আয়োজনে হালের লেখা কোনো বই, দুর্দান্ত কোনো উপন্যাস, বুক-কাঁপানো কোনো কবিতার চরণ, আনকোরা কোনো শারদ-সংখ্যা- এবারও আমাদের সাহিত্যোৎসব।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি