সিরাজদ্দৌল্লা
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
সম্পাদনা - বারিদবরণ ঘোষ
ইতিহাসের একটি চরিত্রকে বুঝতে হলে শুধু প্রচলিত কাহিনি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অনুসন্ধান, প্রয়োজন প্রামাণ্য সূত্রের কাছে ফিরে যাওয়া।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র 'সিরাজদৌল্লা' সেই অনুসন্ধানেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। গ্রন্থের ভূমিকাতেই লেখক জানিয়েছেন, ১৯০২ সালে সাধনা ও ভারতী-তে প্রকাশিত সিরাজদৌল্লা-বিষয়ক প্রবন্ধকে সংশোধিত ও পরিবর্ধিত করে এই গ্রন্থের রূপ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও নানা ঐতিহাসিক উপাদান, প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত তথ্য এবং বিভিন্ন সূত্রের সাহায্যে রচনাটি পরিমার্জিত হয়েছে।
সিরাজদৌল্লাকে নিয়ে দেশ-বিদেশে যে নানা আলোচনা ও সমালোচনা প্রচলিত, তার মধ্যেও লেখক সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাননি। বরং বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণ, সমকালীন দলিল এবং পরবর্তী গবেষণার সূত্র পাশাপাশি রেখে তিনি চরিত্র ও ঘটনাগুলিকে বিচার করার চেষ্টা করেছেন।
এই অনুসন্ধানের মধ্যেই উঠে আসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য—
“Shirajuddaulah was more unfortunate than wicked”
অর্থাৎ, সিরাজদৌল্লা দুষ্টের চেয়ে অধিক দুর্ভাগ্যশালী ছিলেন।
ইতিহাসের চিত্র যে সবসময় সরল সিদ্ধান্তে ধরা দেয় না—এই কথাটিই যেন বইটির অনুসন্ধানের অন্যতম ভিত্তি। তাই 'সিরাজদৌল্লা' কেবল একটি ঐতিহাসিক চরিত্রের বিবরণ নয়; বরং নানা সূত্র, দলিল ও বিবরণের মধ্য দিয়ে সেই ইতিহাসকে বুঝে নেওয়ার একটি প্রয়াস।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র 'সিরাজদৌল্লা'—ইতিহাসকে আর-একবার, একটু গভীরভাবে পড়ার আহ্বান।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি