ওয়াকিল এ কলকাত্তা
দেবসেনাপতি নন্দী
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ : অনির্বাণ মিত্র
ফিরিঙ্গি কালীবাড়ির সন্ধ্যারতি শেষ হয়েছে সবেমাত্র, ডানদিকের ঝুপসি শিমূলগাছটার নিচে বুড়ো শঙ্করলালের যে পানের দোকানটা, যেখানে একটা মাদী নেড়িকুকুরের পেটের ওম ঘেঁষে তিনটে তুরতুরে ছানা শুয়ে আছে গায়ে গায়ে, সেখানে সোনাপট্টির নেহারালারা ভিড় করে এই সময়টায়।
বিপিন বিহারী গাঙ্গুলী স্ট্রিটের বাতাসে, গাড়ির প্যাঁকপ্যাঁক হর্ন, কন্ডাক্টরের খ্যানখ্যানে গলায় “শেয়ালদা, শ্যামবাজার, দমদম” একটানা চ্যাঁচানো, টুকরো টুকরো ভেসে আসা গাওস্কর আর জিওফ্রে বয়কটের কমেন্ট্রি, ‘কৃষ্ণা ইলেকট্রনিকে’র দেওয়ালে রোদে-জলে ছিঁড়ে-ছিঁড়ে আসা ন্যাতানো ‘যুগন্ধরে’র পোস্টারে বন্দুক হাতে কপালে তিলক কেটে দাঁড়িয়ে থাকা মিঠুন চক্রবর্তী, দোলের একহপ্তা বাদেও রাধারাণী সুইটসের ভেতর ঘি পোয়া কেনার লাইন... একটা কানফাটানো আওয়াজ। একমুহূর্তের জন্যে বাকি সব শব্দ-দৃশ্য-গন্ধ তালগোল পাকিয়ে দিলো..পোড়া বারুদের গন্ধ, রক্তের আঁশটে গন্ধ, ধোঁয়া, একটুক্ষণ আগে বাসায় ফিরে যাওয়া পাখিদের একসঙ্গে ডানা ঝটপটিয়ে উড়ে যাওয়া, কানে তালা লাগানো রিনরিনে নিস্তব্ধতা..আর্তনাদ, কান্না, গোঙানি, ধুলো, সাইরেন...
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি