অজানা উষার কালে
অমিতাভ রায়
ওর বাবার পিতামহ মাণিক্য তর্কভূষণ পলাশীর যুদ্ধের সময় যশোহরের কুমিরা থেকে নৈহাটিতে এসেছিল। তর্কযুদ্ধে মাণিক্য তর্কভূষণের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ত্রিবেণীর বিখ্যাত পণ্ডিত জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন। খুব কম বয়সেই বাবা রামকমল ন্যায়রত্নকে হারায় ও। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা নন্দকুমার ন্যায়চঞ্চুর উপরে সংসারের দায়িত্ব পড়ে। কিন্তু, নন্দকুমার অকালেই চলে গেল। তখন, বিদ্যাসাগর না থাকলে কোথায় ভেসে যেতো ওরা! নিজের নামটাও অচিরেই হারাল ও। অসুস্থ শরৎনাথ সুস্থ হয়ে ওঠার পরে নাম হয়ে গেল হরপ্রসাদ। কেননা, সবার ধারণা ছিল শিবের আশীর্বাদেই ও বেঁচে উঠেছে। শিক্ষক হিসেবে পেল কুলীনকুলসর্বস্ব নাটকের লেখক রামনারায়ণকে। মহাকবি কালিদাসকে ভালবেসে ফেলল ও। বঙ্কিমচন্দ্রের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠল হরপ্রসাদের। পরবর্তীকালে রাজেন্দ্রলাল মিত্র এবং এশিয়াটিক সোসাইটির সঙ্গে যে সম্পর্ক তৈরি হল হরপ্রসাদের সেই সম্পর্কই ওর জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করল।শিক্ষিত বাঙালি বাংলাভাষাকে গুরুত্বই দেয় না। ভাবে, একবারে নতুন ভাষা। হরপ্রসাদের ধারণা বাংলাভাষার জন্ম হয়েছে অনেক আগেই। ইতিহাসের কোনও এক বাঁকবদলের সময় এই সমস্ত পুথি বাংলার বাইরে চলে গিয়েছে। বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে পড়ল হরপ্রসাদ। হয়তো একসময় এই ধর্মের হাত ধরেই রচিত হয়েছিল সাহিত্য। তখনই সৃষ্টি হয়েছিল বাংলাভাষার। সাহিত্য পরিষদ আর এশিয়াটিক সোসাইটির কর্মযজ্ঞে জড়িয়ে পড়ল হরপ্রসাদ। প্রাচীন পুথির খোঁজে আর বাংলাভাষার জন্মক্ষণের সেই অজানা উষাকালের সন্ধানেই ওর নেপালযাত্রা। সফল হবে কী হরপ্রসাদ? সেই পুথি কী খুঁজে পাবে ও যার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে বাংলাভাষার জন্মলগ্ন? হরপ্রসাদ কী প্রমাণ করে দিতে পারবে ওর মাতৃভাষার অতীত ঐতিহ্যের গুরুত্ব? 'অজানা উষার কালে' ঐতিহাসিক উপন্যাসটি সেই মাতৃভাষা সন্ধানেরই কাহিনি- বাংলাভাষার শিকড়ের সন্ধান।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি