মৃত্যু-পূর্ববর্তী পাঁচ দিন
শুভদীপ রায়চৌধুরী
একটি বিষণ্ণ সময়ে প্রবেশ করছি আমরা। সভ্যতা, মানবতা, নীতিবোধ ইত্যাদি যা কিছু আমরা বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে মানুষের এবং মানবসভ্যতার চালিকাশক্তি হিসাবে দেখে এসেছি, জেনেছি, সবকিছুই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতির ঘৃণাসম্পৃক্ত চেহারা আমাদের বারবার শিহরিত করেছে গত কয়েক বছরে। আর এই সবকিছুই হচ্ছে ক্ষমতার ইচ্ছায়। তার অঙ্গুলিহেলনে।
কিন্তু ক্ষমতা কী? কার ক্ষমতা? কিভাবে সে সেটা অর্জন করল? এমন কি কেউ নেই যে ক্ষমতার সামনে দাঁড়িয়ে (গলিয়াথের সামনে যেমন ডেভিড) তার চোখে চোখ রেখে বলবে, 'এটা অন্যায়'? নাকি যে বলবে বা বলতে পারে সেও আসলে ক্ষমতারই অন্য আর একটি রূপ? মিশেল ফুকোর পরেও আমরা কি বুঝতে পারিনি যে জ্ঞান ও ক্ষমতার গোপন আঁতাতই আসলে সৃষ্টি করে আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তিভূমি?
একজন মরণাপন্ন একনায়ক। স্মৃতি তাঁকে ছেড়ে যাচ্ছে ক্রমশ। একজন অনাথ মেয়ে যে তাঁর দেখাশোনায় নিজেকে উৎসর্গ করেছে। একজন মানুষ যে আমাদের মনে করাবে দস্তয়ভস্কির 'ইডিয়ট' উপন্যাসের 'প্রিন্স মিশকিন'-কে। একজন বিপ্লবী যে কেবল একটি ন্যারেটিভের বদলে তুলে ধরে অন্য আর একটি ন্যারেটিভ। এবং আরও দু-একজন নিয়তিতাড়িত চরিত্রকে নিয়ে শুভদীপ রায়চৌধুরীর উপন্যাস 'মৃত্যু-পূর্ববর্তী পাঁচ দিন'।
এই বই একটি উপন্যাস। কিন্তু এ একপ্রকারের আত্মখোঁজও বটে। যে অমীমাংসিত সময়ে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, কুঁচকে যাওয়া যেসব ন্যারেটিভ আমাদের ক্রমাগত মানুষের থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে, সেই সময়ের এবং সেইসব ন্যারেটিভের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এই উপন্যাস একটি প্রয়োজন।