সন্ধ্যারাতের শেফালি
মিস শেফালি
আলোকচিত্র : নিমাই ঘোষ
মিস শেফালি। বিস্তারিত পরিচয় নয়, শুধু নামটাই যথেষ্ট বহু মানুষের স্মৃতিতে আলোড়ন ফেলে দেওয়ার জন্য। বাঙালি জীবনে, সমাজে এবং সংস্কৃতিতে এমন নাম খুব কমই আছে, যা একই সঙ্গে কৌতুহল, কামনা এবং তাচ্ছিল্য জাগিয়েছে। মিস শেফালি সেই বহুশ্রুত উপমার মতো, যাকে হয় আপনি ভালবাসবেন, নয় ঘৃণা করবেন, কিন্তু কিছুতেই অবজ্ঞা করতে পারবেন না। শহরের বিলাসবহুল হোটেলের নাচের আসর থেকে সাধারণ রঙ্গালয়, বাংলার নাগরিক বিনোদনের ইতিহাস লিখতে হলে, প্রথম বাঙালি ক্যাবারে ডান্সার মিস শেফালি অনিবার্য একটি অধ্যায়। মিস শেফালি ওরফে আরতি দাসের এই আত্মকথন প্রকৃতপক্ষে অভাবী উদ্বাস্তু পরিবারের একটি মেয়ের হার না মানা লড়াইয়ের গল্প। তাঁর বিস্ময়কর উত্থান এবং একদিন ফের জনারণ্যে হারিয়ে যাওয়ার কাহিনি হৃদয় স্পর্শ করে যায় নিঃসন্দেহে।
লেখক পরিচিতি :
মিস শেফালি ওরফে আরতি দাসের জন্ম ৪ মার্চ ১৯৪৭তৎকালীন পূর্ববঙ্গের নারায়ণগঞ্জে। পিতা রামকৃষ্ণ দাস, মাতা সুভাষিণী। দেশভাগের পর কলকাতার আহিরীটোলায় এসে আশ্রয় নেয় পরিবার। ভাগ্যবিড়ম্বিত জীবনে মাত্র ১১ বছর বয়সেই এক অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান বাড়ির পরিচারিকা। পরের বছর ১৯৫৯-এ ফিরপোজ হোটেলের ক্যাবারে নর্তকী। আরতি থেকে হলেন শেফালি। ১৯৬৩ সালে ওবেরয় গ্র্যান্ড থেকে ডাক পান। ১৯৬৭-তে হোটেল হিন্দুস্থান, ১৯৬৯-এ আবার ওবেরয় গ্ল্যান্ডে। সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। নৃত্য এবং অভিনয়ের জন্য পেশাদার রঙ্গালয়ে তাঁর খ্যাতি ছিল আকাশছোঁয়া। বিশ্বরূপা, রামমোহন মঞ্চ, সারকারিনা, রঙমহলে তাঁর অভিনীত বিখ্যাত নাটকের মধ্যে আছে 'চৌরঙ্গি', 'আসামী হাজির', 'কড়ি দিয়ে কিনলাম', 'সাহেব বিবি গোলাম', 'সম্রাট ও সুন্দরী' প্রভৃতি। ওয়ানওয়াল থিয়েটার, যাত্রাও করেছেন। বাংলা চলচ্চিত্র প্রসার সমিতি, আর্টস ফোরাম, চিত্রজগৎ কর্তৃক ওয়েস্ট বেঙ্গল জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন-এর 'দিশারী' পুরস্কারের পাশাপাশি সম্মানিত হয়েছেন 'উত্তমকুমার স্মৃতি পুরস্কার'-এ। অবসরজীবনে বসবাস করছেন সাতগাছিয়ার ফ্ল্যাটে।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি