সাঁকো
শান্তা মুখোপাধ্যায়
শান্তা মুখোপাধ্যায়ের অঙ্গামী নাগা জনজীবনের কাহিনি অবলম্বনে লেখা 'সাঁকো' উপন্যাস।
ইংরেজ আগমনের আগে পর্যন্ত ভারতবর্ষের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে নাগা পাহাড়ের গ্রামগুলির নাগা গোষ্ঠীরা তাদের স্বাধীন সত্তা নিয়ে বাঁচত। তাদের ছিল নিজস্ব সমাজ রীতি। ভারতের কোনো বড়ো শাসকই তাঁদের নিজেদের শাসন ক্ষমতার মধ্যে তেমনভাবে আনতে পারেননি। তবে ইংরেজদের আগ্রাসন নীতি এই নাগা সমাজের স্বাধীন সত্তাকে বিদ্ধ করে ঢুকে পড়তে পেরেছিল নাগাজীবনে মিশনারি শিক্ষা নিয়ে। অঙ্গামীরা শিক্ষিত হয়ে ওঠে তারপর। ফলত, অঙ্গামীদের নিজেদের ভাষায় সেই সময় নিজেদের লেখা ইতিহাস নেই, কোনো লিপি নেই। ওড়াল ট্র্যাডিশন হিসেবে লোককথা, গান, নাচ, উৎসব, রীতিনীতি গোষ্ঠী সাপেক্ষে পৃথক হলেও এগুলোই ছিল দীর্ঘদিন পর্যন্ত তাদের সংস্কৃতি।
'সাঁকো' উপন্যাসে কাহিনির বিস্তার উনবিংশ শতকে শেষার্ধে। ইংরেজ আগ্রাসন অঙ্গামী অস্মিতায় কীভাবে আঘাত হেনেছে, অঙ্গামীরা কীভাবে কোহিমা গ্যারিসন ১৪ দিন অবরোধ করে রেখেছিল সেই প্রসঙ্গ এসেছে। অঙ্গামী রীতিনীতি, সংস্কৃতি আমাদের থেকে এতটাই আলাদা যে আমাদের চোখ দিয়ে সেই বিষয়কে দেখার জন্য, বোঝার জন্য লেখক ইতিহাসের মূল কাঠামো পরিবর্তন না করে 'অন্তু' চরিত্র নির্মাণ করেছেন। বাংলা ভাষায় অঙ্গামী নাগাজীবনকে তুলে ধরার প্রয়াস বিরল। পাঠকদের হৃদয় কোণে হয়তো জায়গা করে নেবে কেভিসে বা ভিয়াতসু।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি