বঙ্গের লুপ্তপ্রায় লোকশ্লোক
সংগ্রহ ও বিন্যাস : শিবশঙ্কর পাল
শ্লোক বা প্রবাদ এক প্রকার নীতিকথা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়ের সংক্ষিপ্তসার হল প্রবাদ বা সেসব গ্রামীণ শ্লোক শ্লোকের অভ্যন্তরে থাকে কোনো একটি ঘটনা বা পরিস্থিতির মূলকথা। সেখানে থাকে নীতিকথা, জনশিক্ষা, তত্ত্বকথা, পরামর্শ, সতর্কতা, সাবধানতা, শঠতা, ব্যঙ্গ, উপহাস, হেঁয়ালি প্রভৃতি এ সব জনপ্রবাদ বা জনশ্লোক থেকে বুঝে নেওয়া যায় নানা অঞ্চলের ভাষাবৈচিত্র, উচ্চারণ-বিবিধতা, ঘরে-বাইরের কাজকর্ম, খাদ্যাভ্যাস, ধর্মীয় আচরণ, ঠিক-ভুল, মানবধর্ম, সংসারজীবন, উপকারিতা, সাহায্য-সহানুভূতি, সামাজিক সম্পর্ক, রাজনীতি, নৃতত্ত্ব, ইতিহাস, প্রকৃতি প্রভৃতি। আবার এদের নানা গোত্রেও ভাগ করা যেতে পারে। যেমন— মানবচরিত্রকেন্দ্রিক, সংসারকেন্দ্রিক, আচার-আচরণ-সংস্কারকেন্দ্রিক, খাদ্যাভ্যাসকেন্দ্রিক, নারীকেন্দ্রিক, চাষবাসকেন্দ্রিক প্রভৃতি।
প্রবাদ-প্রবচন-শ্লোক আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। যা এককালে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ ছিল। মা, মেয়েদের কথায় কথায় শোনা যেত। বর্তমানে শ্লোক বা প্রবাদের ব্যবহার দিন দিন কমছে। কাজের নিরিখে, বিষয়ের নিরিখে মুখে মুখে ফিরত শ্লোক-পাঁচালি। একালে এসে যা পরিণত হয়েছে সংরক্ষণের বিষয়ে। কিছু শ্লোক-প্রবাদ একেবারে অবলুপ্ত। কিছু খুবই কম শোনা যায়। যা মৃতপ্রায়। লুপ্তপ্রায়। সে-সব লুপ্তপ্রায় বা মরতে বসা কিছু গ্রাম্য শ্লোক এখানে রাখা হল। যা এখনও গ্রাম-গঞ্জ-নগরে কদাচিৎ শোনা যায়। তা যথেষ্ট অর্থবহ। তাৎপর্যপূর্ণ। ততোধিক কালের জীবনযাত্রা, অভিজ্ঞতার সারাংশ। এখানে পূর্ববঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণ বঙ্গের সে-রকম কিছু শ্লোক তুলে ধরা হল। শুধু অঞ্চল নয়, এখানে নানা জনজাতিরও কিছু কিছু লোকশ্লোক তুলে ধরা হয়েছে। যেমন মেচ, রাভা, টোটো, রাখাইন, লিম্বু, ডুকপা, সাদরি প্রভৃতি। যা স্বল্পশ্রুত। স্বল্পব্যবহৃত। প্রায় অবলুপ্ত।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি