হাইপেশিয়া আর পাচঁটি বিজ্ঞান নাটক
পার্থপ্রতিম মিত্র
বিজ্ঞান মানেই কঠিন নয়, বিজ্ঞানকে কেন্দ্র করেও যে নাটক হয়, তারই ফলশ্রুতি পার্থপ্রতিম মিত্রের 'হাইপেশিয়া' নাটকের বইটি।
'বিজ্ঞাননাটক', একটি শ্রুত-পরিচিত-কথন অভ্যস্ত শব্দবন্ধ না। তাই শব্দদুটিকে বিচ্ছিন্ন রাখা হোল, বিজ্ঞান নাটক। তবে এই দুটি শব্দ সমাসবদ্ধ হয়ে উপস্থাপিত হলে এক উদার উদ্ভাসের যবনিকা উত্তোলনে বিজ্ঞানের নন্দনতাত্ত্বিক রূপ আর দার্শনিক রূপের অন্বয়ে যেন এক নবদীপনের প্রজ্জ্বলন ঘটে যায়। কীরকম?
সাঁইত্রিশ বছর ধরে উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষকতা করে অবসর নিয়ে এখন সমাজ-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সর্বসময়ের কর্মী। মূলত অভিনিবেশ থিয়েটারে। বিজ্ঞান ক্লাবে আনাগোনাও অনেকদিনের।
বিজ্ঞানের জন্য পথ হাঁটতে, পথে-ঘাটে বিজ্ঞানের জন্য ইস্তাহার বিলোতে অন্তহীন উৎসাহ তাঁর।
বিজ্ঞানের নান্দনিক অভিমুখ দিতে কতই না পরিকল্পনা-প্রয়োগ! স্কুলের সরস্বতী পুজোর থিম গণিত, মূল মণ্ডপ যেন জ্যামিতির সম্পাদ্য! আপাদমস্তক সৃজনশীল এই মানুষকে দেখা গিয়েছে থিয়েটার নিয়ে নানা সময়ে নানা আঙিনায় নানা পরীক্ষা নিরীক্ষায় মগ্ন হতে। শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে আসলেই চোখে পড়বে মঞ্চযাপনের সাথে সাথে আড্ডায় মধ্যমণি হয়ে ওঠা অনেক ছাত্রছাত্রীর প্রিয় থিয়েটারের স্যার চিৎকার করছেন, 'কেমিস্ট্রির অধ্যাপক ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ ল্যাবরেটেরির থেকে সটান পৌঁছিয়ে গিয়েছিলেন বঙ্গরঙ্গমঞ্চে আলিবাবা করতে, আর আমি আমার বিজ্ঞান ক্লাসটাকেই আনতে চেয়েছি বঙ্গরঙ্গমঞ্চে।' এই বিজ্ঞান নাটক নিয়েই তিনি জাতীয় বিজ্ঞান নাট্যোৎসবে অংশ নিয়েছেন। পুরস্কৃতও হয়েছেন। পুরস্কার অভীষ্ট নয়। তবে? এমনতর প্রশ্ন করলেই জলদগম্ভীরস্বরে আবৃত্তি করে ওঠেন রবীন্দ্রনাথ।—
'এ অভাগা দেশে জ্ঞানের আলোক আনো।'
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি