প্রেমের শেষ অধ্যায়
সাথী দাস
প্রচ্ছদ : অয়নদীপ চক্রবর্ত্তী
তরীর খুব কান্না পাচ্ছে। ষোড়শীর আকুল হৃদয়ের গোপন কাব্যমালা পড়ার ক্ষমতা কি নিরক্ষর মেঘের আছে? পড়তে যাওয়া যাবে আজ? যদি আরও জোরে বৃষ্টি নামে! সকলের অগোচরে গোধূলি ফুরিয়ে দিনের আলো নিভে যাবে। সমস্ত দিন নীড়ে বসে পক্ষীশাবক ক্লান্ত। দারুণ বৃষ্টিতে মা-পাখিটাও ডানা ঝাপটায় না। বিদ্যুতের তারের ওপর বসে আনমনে ভাবে গত জন্মের কথা। বাসায় ফিরে ডানার আড়ালে লুকিয়ে ফেলে ছানাটিকে। দুটো ছোট্ট ডানার উষ্ণতায় কত মায়া...
বিরহে কাতর হয় তরীর হৃদয়। কারণ সেই মানুষের মায়া নেই। আশা নেই। আকাঙ্খা নেই। কামনা নেই। ব্যস্ততা নেই। তার মনে বুঝি প্রেম নেই। কান্না নেই। নেই একবিন্দু আগ্রহও। তবে কিসের অপেক্ষায় তরী বসে থাকবে এক জন্ম?
অর্থহীন শূন্যতাকে আঁকড়ে ধরে তরী দিনরাত ভাবে, কী অনাবিল সুখ ওই আঁখিপল্লবে! বৃষ্টির মতো অঝোর ধারায় বিষাদ ঝরে তার গালে। এই দারুণ বৃষ্টিতে সে কি বিরহকাতর? তার মুখ কি শুষ্ক? সেখানে বুঝি বর্ষা নেই। শরৎ নেই। বসন্ত নেই। রয়েছে গ্রীষ্মের প্রখরতা আর হিমশীতল রুক্ষতা।
তরী সময়জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বৃষ্টির মাঝে ওর মন হারিয়ে গেছে দূরে। রাশি রাশি ঝরাপাতার স্তুপে পা ডুবে যায়। মাঠ পেরিয়ে বন, বন পেরিয়ে দীঘি। জ্যোৎস্নালোকিত জলের ওপর কোটি নক্ষত্রের ছায়া। তরী একাকী গেয়ে ওঠে দীঘির তরঙ্গে ফেলে আসা গানের অন্তরা। নিজের কর্কশ কণ্ঠে চমকে চুপ করে যায় সে। শ্রীমতীর রান্নাঘর থেকে ভেসে আসে ভাতের গন্ধ। প্রতিবেশীর বাড়িতে শিশু কেঁদে ওঠে। শ্রীমতীর ব্যস্ততা আর সোনার চুড়ির রিনরিনে শব্দ গৃহস্থের দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে হারিয়ে যায় পাড়ার গলিতে। তরী জানালার গরাদ ধরে বৃষ্টিভেজা টগর ফুলগাছের দিকে চেয়ে থাকে। যেন শতশত ভিজে নক্ষত্র নেমে এসেছে টগরতলায়। নিজেকে প্রশ্ন করে তরী, 'আর কত মন্দ থাকলে, তার ভালো থাকার অনুভূতি জলের দরে কিনতে পারব?'
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি