রাবণ
তরুণ চট্টোপাধ্যায়
প্রাক কথন-এ সূচনাতেই লেখক লিখছেন, 'রাম ও রাবণ একই পৃষ্ঠার এপিঠ-ওপিঠ। তাহলে কী রাম ও রাবণ হরিহর আত্মা! তা তো নয়। আসলে দশাননকে খাটো করে না দেখালে মহাকবি রামকে মহান করবেন কী উপায়ো মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর 'মেঘনাদ বধ কাব্য'-তে ভারতীয় ধর্ম ও সংস্কৃতির ধারায় প্রবহমান সংস্কার, ধ্যানধারণাকে চুরমার করে দিয়ে সাহিত্যের ইতিহাসে এক নবজাগরণের সূচনা করলেন। লেখক তরুণ চট্টোপাধ্যায় সেই ধারাকেই আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে আরও বেগবান করলেন। রামায়ণ-এ রাম ক্রীড়নক। পুতুলনাচের সুতো দেবতাদের হাতে। আর সীতা যুদ্ধবন্দি। এর মাঝেই লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন সেইসময়ের লঙ্কার অর্থনৈতিক অবস্থার চিত্র। ব্যক্তি রাবণের প্রতিভার দশদিককে বুঝি তিনি তুলে ধরেছেন অত্যন্ত সহৃদয়তার সঙ্গে। কলা বিদ্যায়ও যে রাবণ অত্যন্ত পারঙ্গম ছিলেন, সে বিষয়েরও উল্লেখ রেখেছেন লেখক।
অযোধ্যার গড়ে ওঠার প্রাগইতিহাস, অযোধ্যা কথার অর্থ গবেষণা প্রসূত এইসব বর্ণনার পাশাপাশি ঋষি বিশ্বামিত্র ও বশিষ্ঠের চরিত্রগত বিশ্লেষণ, তাঁদের অধ্যাত্মিক ও কূটনৈতিক কর্মধারার উল্লেখ সহ বইয়ের যবনিকায় রাবণ মন্ত্রের যে কয়েকটি পংক্তি লেখক উদ্ধৃতি হিসাবে লিপিবদ্ধ করেছেন তা এই বইটিকে সমৃদ্ধ করেছে।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি