শকুনি
তরুণ চট্টোপাধ্যায়
এক যে ছিল রাজা। মহাভারতের বর্নিত কাহিনিতে রাজাদের ছড়াছড়ি। নবাব, বাদশা সে সময় এদেশে পা রাখেননি। গান্ধার রাজ সুবলের পুত্র শকুনি পিতৃ সত্য পালনে রাজ ঐশ্বর্য ত্যাগ করে রয়ে গেলেন হস্তিনাপুরে বোন ও জামাইবাবুর আলয়ে। বড় ভাগ্নে দুর্যোধনকে নিয়ে সাজালেন পাশার ছক। উদ্দেশ্য কৌরব বংশ ধ্বংসের। তাঁর হাত ধরেই দুর্যোধন চললেন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে। পরাজিত হলেন কৌরবেরা। ধর্মের জয় এল, অধার্মিকদের পরাজয়। ললিপপের মতো দুর্যোধনের সামনে সিংহাসন ঝুলিয়ে রেখে নিজের টার্গেট ফিলআপ করলেন শকুনি। পিতা ও ভায়েদের অনাহারে মৃত্যুর কারিগর ভীষ্মকে মোক্ষম জবাব দিলেন তিনি। দ্রোন, কর্ণ, ভীষ্ম, জয়দ্রথ সহ পুরো কৌরব বাহিনীকে টেনে আনলেন যুদ্ধের ছাতার তলায়। পাণ্ডবদের জিতিয়ে দিলেন এবং নিজে মৃত্যু বরন করলেন। মহাভারতের পাতায় তাঁকে শঠ, কুটিল আখ্যা দিলেও তিনি ছিলেন এক অবতার। পাপের ঘড়া একদিনও স্পর্শ করলেন না। যেটি করলেন পিছনে ছিল তাঁর পিতৃহন্তার প্রতিশোধ। যা নেই ভারতে তা নেই মহাভারতে। শকুনি সত্যিই গ্রেট। মহাভারতের সব চরিত্রকে শকুনির ময়নাতদন্তের ফলাফল পিছনে ফেলে শকুনি উঠে এলেন পাঠকের চোখের মনি হয়ে।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি