প্রপ্টোসিস
অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রচ্ছদ : কৃষ্ণেন্দু মন্ডল
--- ‘তারপর? তারপর কী হল’?
--- ‘কার পর’?
--- ‘ওই যে তুমি একটু আগে বললে – ওরা চারজন মিলে তোমায় মন্দিরের ভিতর নিয়ে গেল? তারপর কী হল’?
--- ' মন্দিরের দরজাটা বন্ধ করে দিলো ওরা – কালাঘাট’।
--- ‘কী’?
--- ‘কালাঘাট দরজা, মন্দিরের আসল দরজা, বড় দরজা’।
--- ‘কারা বন্ধ করল? তুমি তাদের চিনতে’?
--- ‘সবাইকে না! কয়েকজন’কে! অন্ধকার ছিল – আলো ছিল না, তবে ..’
--- ‘তবে’?
--- ‘বলরাম দাস ছিল, গোকুল মিশ্র ছিল, পুরন্দর ছিল, স্বরূপ ছিল’!
শেষ কথাটা অনেকটা স্বগতোক্তির স্বরে বলল কিঞ্জল। তার শিশুমুখে স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ।
--- ‘আচ্ছা তারপর’?
কিঞ্জল চুপ করে গেলো। পিছনে ফিরে একবার জানলার দিকে তাকালো।
ডাক্তারবাবু বললেন – ‘উঁহু! ওদিকে না, আমায় বলো’?
সাত বছরের ছোট্ট ছেলেটার মুখ শুকনো। তাকে দেখে মনে হল, সে যেন ভাবনার সাগরে ডুব দিয়েছে। ওর কপাল ঘেমে উঠেছে, হার্টবিটও যে বেশ বেড়ে গেছে, তা ওর ছোট্ট বুকের খাঁচা ওঠা-নামা দেখেই বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছে। বেশ খানিকক্ষণ কোন উত্তর দিলো না কিঞ্জল।
ডাক্তার বিশ্বম্ভর পালিত এবার একটু গলার স্বর চড়ালেন – ‘তারপর কী হল বলো’?
কিঞ্জল চমকে গেল। তারপর দু বার বিড়বিড় করে বলল – ‘১৫৩৩’।
মধু মিত্তির সিরিজের চতুর্থ আখ্যান 'প্রপ্টোসিস'।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি